বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বজুড়ে এক অন্যরকম উন্মাদনা, আর সেই উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনেও। মাঠের তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকারা নিজেদের প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন, মজার খুনসুটি আর ট্রলের মধ্য দিয়ে এই বৈশ্বিক উৎসবকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা কেন্দ্র করে তাদের সরব উপস্থিতি ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা বিশ্বকাপের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতি চার বছর পর যখন ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের দামামা বাজে, তখন দেশের অভিনয়শিল্পী, সংগীতশিল্পী, উপস্থাপক এবং অন্যান্য শোবিজ ব্যক্তিত্বরা নিজেদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও খুঁজে নেন ফুটবলের আনন্দ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি; তারকারা ব্যক্তিগত পছন্দ ও আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন, যা প্রায়শই হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। কেউ ব্রাজিলকে খোঁচা দিচ্ছেন, কেউ আবার আর্জেন্টিনার হয়ে আগেভাগেই শিরোপা উদযাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
ব্রাজিল সমর্থক অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ তার সরস ও কৌতুকপূর্ণ পোস্টের জন্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। একটি ছবিতে ছাতা-বালতি নিয়ে নেমেছেন জানিয়ে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “ছাতা-বালতি সব নিয়ে নেমেছি! বৃষ্টি-বন্যা যাই হোক, আর্জেন্টিনার পাশে আছি।” এরপর মেসিকে নিয়ে রসিকতা করে তিনি আরও লেখেন, “পেনাল্টি মিস করার পর মনে হয় ফিফা এখন ফ্রি-কিক দেওয়াই শুরু করেছে! এভাবে তো গোল্ডেন বুটও দিয়ে দেবে।” এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মেসির সঙ্গে নিজের একটি ছবি তৈরি করে তার ক্যাপশনে লিখেছেন, “ভাই যেহেতু বলছে, কাজ হয়ে যাবে,” যা তার কৌতুকপূর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক এবং ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
অন্যান্য ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে, অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণে মেসি ও এমবাপ্পের বর্তমান ছন্দ নিয়ে মন্তব্য করেন। তার বিশ্বাস, এবারের শিরোপা হয়তো এমবাপ্পের হাতেই উঠতে পারে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের আসন্ন প্রতিপক্ষ জাপানকে সামনে রেখে অভিনেত্রী দীপা খন্দকার এক পোস্টে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ব্রাজিল কি চাপে আছে?” যদিও তার এই পোস্টের মন্তব্যের ঘর আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল সমর্থকদের “ব্রাজিলই জিতবে” স্লোগানে ভরে ওঠে, যা দলটির প্রতি তাদের অগাধ আস্থাই প্রমাণ করে।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থকরাও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। অভিনেতা খায়রুল বাসার মেসির গোল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, “মেসি আসবেন আর গোল হবে না—এটা তো বেমানান। তাই এক গোল করেই থেমেছেন। অল্পতেই কাজ হলে অতিরিক্ত ভয় দেখানোর দরকার কী!” তিনি আরও একধাপ এগিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে নিজেকে মেসির ‘বিকল্প’ ঘোষণা করে মজা করে লেখেন, “আজ নাকি মেসি বসে থাকবে। ততক্ষণ আমার নেমে যেতে হবে মেসি হয়ে। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের পাশে নিয়ে আজ থাকলাম লাওতারো- ডি পল- এনজো - এমি মার্টিনেজদের সাথে।”
খায়রুল বাসার আর্জেন্টিনার ম্যাচের দীর্ঘ বিরতি নিয়েও তার আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, “কি এক দামী দল সাপোর্ট করি! তাদের এক ম্যাচ দেখার পর আরেক ম্যাচ দেখার জন্য প্রায় ১ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কি এক কঠিন ব্যাপার! এর চেয়ে ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য ৪ বছর অপেক্ষা করা সহজ।” এই অপেক্ষার আক্ষেপ মেটাতে তিনি বাস্কেটবলে লাথি মেরে নিজেই খেলা শুরু করার কথা জানান, যা তার ফুটবলপ্রেমের গভীরতা এবং রসিকতা উভয়ই ফুটিয়ে তোলে।
অন্যান্য তারকাদের মধ্যে, অভিনেত্রী মালাইকা চৌধুরী শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও খেলা দেখতে ভোলেননি। রাতভর ম্যাচ দেখে সকালে ক্লাসে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, “ম্যাচের জন্য জেগে ছিলাম, এখন ক্লাসের জন্য জেগে আছি। তোমাদের দিন কেমন যাচ্ছে?” আর্জেন্টিনার নকআউট ম্যাচ সামনে রেখে ব্রাজিল সমর্থক কুদ্দুস বয়াতীও তার নিজস্ব ভঙ্গিতে মজার মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন, “জীবনটা যদি আর্জেন্টিনার মতো সহজ হতো।” চিত্রনায়িকা পূজা চেরিও তার সমর্থনের কথা আবেগঘন ভাষায় জানিয়েছেন, যেখানে প্রতিটি গোল যেন তার হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ তোলে এবং তার প্রিয় দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পায়।
তবে সব তারকা যে ফুটবলের উন্মাদনায় সমানভাবে সরব, তা নয়। ব্রাজিলের সমর্থক হলেও অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী ফুটবল নিয়ে খুব বেশি পোস্ট দেননি। তিনি বরং নিজের নতুন নাটক ‘তোমার আমার প্রেম’–এর সাফল্য নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এবং একদিনেই প্রায় ৫০ লাখের বেশি দর্শক নাটকটি দেখেছেন জানিয়ে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই ভিন্ন ভিন্ন অভিব্যক্তিই প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে এক বিশেষ উৎসবে পরিণত হয়, যেখানে তারকারাও নিজেদের মতো করে অংশ নেন এবং এই উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।