মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
স্টার্টআপ 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর, নতুন প্রবৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজ পুরোদমে চলছে। তিনি বলেন, স্থিতিশীলতার পর অর্থনীতি ধীরে ধীরে গতি ফিরে পাবে এবং বাংলাদেশ নতুন প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে প্রবেশ করবে। শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেয়ার করুন:
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর, নতুন প্রবৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছেন যে, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার কাজে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই স্থিতিশীলতা অর্জিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে অর্থনীতি তার হারানো গতি ফিরে পাবে। মন্ত্রী প্রত্যাশা করেন, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির এক নতুন ও টেকসই পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ খুলে দেবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি আসে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত 'স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম' এর অধীনে নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার এক অনন্য সরকারি উদ্যোগ। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সরকারিভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষকদের সরাসরি যুক্ত করার এমন একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যা শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবন ও দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং উত্তরণের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তৃতায় বর্তমান সরকারের সামনে থাকা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি হাতে পেয়েছি এবং এটিকে পুনরুদ্ধারের কাজ পুরোদমে চলছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি হচ্ছে।" অর্থমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, সরকার বর্তমানে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, যেখানে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন প্রণোদনা প্রদান। এই উদ্যোগগুলোর সুফল ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো কেবল বর্তমান সংকট মোকাবিলায় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক হবে। তিনি বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান যে, সারা দেশে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো তরুণ ও বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য নির্বাচিত ১২ জন গবেষক ও উদ্যোক্তাকে অর্থ ও পুরস্কার প্রদান। শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তাঁদের এই গবেষণা কাজে লাগানোর জন্য ৭০ লাখ থেকে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ১২টি প্রকল্পের জন্য মোট ২৩ কোটি টাকার অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্রকে (ecosystem) শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অর্থ বিভাগের সচিব মো. খাইরুজ্জামান মজুমদার এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন তাঁর স্বাগত বক্তব্যে জানান যে, শিল্পের উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য মোট ১২৩টি প্রকল্প জমা পড়েছিল, যেখান থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ১২টি প্রকল্পকে নির্বাচন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন আরও ব্যাখ্যা করেন যে, নির্বাচিত প্রতিটি প্রকল্পের গবেষক সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পূর্বে কাজ করেছেন, যা তাদের ধারণাপত্রকে আরও বাস্তবসম্মত ও শিল্পোপযোগী করেছে। এই প্রকল্পগুলো এক বছর ধরে গবেষণার পর তাদের উদ্ভাবনী সমাধানগুলো শিল্পে সরাসরি প্রয়োগ করা হবে। এটি শুধুমাত্র গবেষণাপত্রেই সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। উদাহরণস্বরূপ, এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছোট হিমাগার থেকে শুরু করে মাছের খাবার বিতরণের যন্ত্র তৈরির প্রযুক্তি এবং ফেলে দেওয়া সুতা থেকে প্যাকেজিং উপকরণ তৈরির মতো বহুমুখী ও কার্যকর উদ্ভাবন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে পুনরায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার কর্তৃক গৃহীত এই সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক সংস্কার এবং উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠবে। তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি ভালো দিকে যাবে এবং দেশের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো কেবল তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নয়, বরং একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা পালন করবে, যা বাংলাদেশকে বিশ্ব মঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ