মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
সিনেমা 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জয়যাত্রা: লন্ডন উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'

নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের আলোচিত সিনেমা 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' এবার ৭০তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান করে নিয়েছে। ভেনিস ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জন। চলচ্চিত্রটি উৎসবের 'বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড'-এর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জয়যাত্রা: লন্ডন উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, যার সর্বশেষ সংযোজন নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত নতুন সিনেমা 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব ও কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার এটি যুক্তরাজ্যের ৭০তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। এই সম্মানজনক অর্জন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল মাইলফলক, যা বিশ্ব মঞ্চে দেশের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রকে নতুন করে পরিচিত করাচ্ছে।

শুধু যে এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে তা-ই নয়, 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' এবার উৎসবের অন্যতম সেরা পুরস্কার, 'বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড'-এর জন্য সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আগামী ৭ থেকে ১৮ অক্টোবর যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য ৭০তম বিএফআই লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে এবারের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে মোট ১০টি সিনেমা লড়বে। এই ১০টি সিনেমার মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড', যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ও দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতা বিভাগে 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'-এর সঙ্গে আরও রয়েছে বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদার 'লুক ব্যাক', ইউক্রেনের সের্গেই লোজনিতসার 'ইম্পেরিয়াম', যুক্তরাজ্যের ক্যারল মরলির '৭ মাইলস আউট', হাঙ্গেরির লিলি হরভাটের 'মাই নোটস অন মার্স' এবং আর্জেন্টিনার বেঞ্জামিন নাইশটাটের 'গ্ল্যাক্সো'। এছাড়া আয়ারল্যান্ডের নির্মাতা জুটি ক্রিস্টিন মলয় ও জো ললারের 'অ্যাক্ট ৩', ইতালির জিওভান্নি তরতোরিচির 'কেটিসে', পোল্যান্ডের মালগোর্জাতা সুমোভস্কা ও মাইকেল এঙ্গলার্টের 'দ্য ইডিয়টস' এবং ডেনমার্কের মে এল-তুখির 'উইমেন আননোন' সিনেমাগুলোও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। এমন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে বাংলাদেশের সিনেমার উপস্থিতি দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয়।

এর আগে, 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব ও টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে এই দুটি আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে এটি। এবার লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়ায় সিনেমাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রত্যাশা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারাবাহিক সাফল্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সক্ষমতা ও বৈশ্বিক মানকে তুলে ধরছে।

নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' একটি মনস্তাত্ত্বিক ভৌতিক চলচ্চিত্র। এর গল্প আবর্তিত হয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মেফেয়ার বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে। এই পার্লারের রহস্যময় অতীত এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক কনের অকাল মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনেমার মূল কাহিনি এগিয়ে চলে। সাসপেন্স, মনস্তত্ত্ব এবং অতিপ্রাকৃত উপাদানের নিপুণ মিশ্রণে চলচ্চিত্রটি দর্শকদের এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়।

গল্পে দেখা যায়, একসময় ওই পার্লারে এক কনে রহস্যজনকভাবে মারা যান। এরপর এক তরুণী তার বিয়ের প্রস্তুতির জন্য সেই পার্লারটিতে এলে একের পর এক অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার মুখোমুখি হতে শুরু করে। এই ঘটনাপ্রবাহ তাকে পার্লারের অন্ধকার অতীতের গভীরে টেনে নিয়ে যায়। রহস্য, ভয় এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় গল্পের অজানা দিক এবং সেই কনের মৃত্যুর নেপথ্যের কারণ, যা দর্শকদের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।

সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম, যার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে তাঁর। জাইনীন করিমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তিন গুণী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। এছাড়া শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম এবং মোহাম্মদ বারীর মতো অভিজ্ঞ অভিনেতারাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা সিনেমার অভিনয় গুণকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রযোজনার ক্ষেত্রেও 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'-এর রয়েছে বিশেষত্ব। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া ডি'আর্টেমারে, জার্মানির আন্না ক্যাচকো, পর্তুগালের পেদ্রো বোর্গস এবং নরওয়ের ইনগার্ড লিল হটন। এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চলচ্চিত্রটিকে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে এবং বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বমানের চলচ্চিত্র তৈরিতে ভৌগোলিক সীমারেখা কোনো বাধা নয়।

ভেনিস ও টরন্টোর মতো মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের পর লন্ডনের মতো চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশের সিনেমার জন্য নিঃসন্দেহে এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এখন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই দেখার জন্য যে, 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' লন্ডন উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে দেশের জন্য নতুন কোনো ইতিহাস তৈরি করতে পারে কি না। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও অনেক বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ