মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
ক্রিকেট 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

গল টেস্টের শেষ দিনে রোমাঞ্চের হাতছানি: ভারতের ৬ উইকেট, শ্রীলঙ্কার ২৮৮ রান প্রয়োজন

গল টেস্টে জয়ের দোরগোড়ায় ভারত। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৩৭২ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে শুভমান গিলের দল। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন আরও ২৮৮ রান, যেখানে ভারতের প্রয়োজন মাত্র ৬টি উইকেট।

শেয়ার করুন:
গল টেস্টের শেষ দিনে রোমাঞ্চের হাতছানি: ভারতের ৬ উইকেট, শ্রীলঙ্কার ২৮৮ রান প্রয়োজন

গল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একতরফা দাপট দেখাচ্ছে ভারতীয় দল। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৩৭২ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম ও শেষ দিনে লঙ্কানদের জয়ের জন্য এখনও ২৮৮ রান প্রয়োজন, যেখানে ভারতের প্রয়োজন মাত্র ৬টি উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বাঁচানো বা জেতা শ্রীলঙ্কার জন্য একপ্রকার অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যেখানে বৃষ্টির হস্তক্ষেপ ছাড়া নাটকীয় মোড় ঘোরানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের চাপের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে মাত্র ৮৪ রান তুলতেই ৪টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। এই মুহূর্তে উইকেটে রয়েছেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা এবং তরুণ সোনাল দিনুশা। তাদের কাঁধেই এখন ম্যাচের ভাগ্য ঝুলে আছে। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার অভিজ্ঞতা এবং সোনাল দিনুশার তারুণ্য কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকা সহজ হবে না তাদের জন্য।

ম্যাচের চিত্রনাট্য অনুযায়ী, ভারত তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কার সামনে এই বিশাল লক্ষ্য স্থাপন করে। প্রথম ইনিংসেও ভারত একটি বড় লিড নিতে সক্ষম হয়েছিল, যা তাদের এই ম্যাচে চালকের আসনে বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুভমান গিলের নেতৃত্বে ভারত ব্যাট ও বল উভয় বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় স্পিনাররা গল-এর পিচে ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছেন, যা পঞ্চম দিনে আরও বেশি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিচ যত পুরনো হচ্ছে, ততই বল টার্ন করছে এবং নিচু থাকছে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে ৩৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করাটা একটি বিশাল কাজ। গলের পিচে, যেখানে স্পিনাররা শেষ দিনে দাপট দেখান, সেখানে এমন লক্ষ্য অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জেতার ঘটনা বিরল, বিশেষ করে উপমহাদেশের পিচে। শ্রীলঙ্কার সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে: হয় অলৌকিকভাবে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করা, যা বাস্তবিকভাবে কঠিন; অথবা পঞ্চম দিনের পুরোটা সময় ব্যাট করে ম্যাচ ড্র করার চেষ্টা করা। তবে হাতে মাত্র ৬ উইকেট নিয়ে পুরো ৯০ ওভার ব্যাট করে যাওয়াটা একপ্রকার হিমালয় জয়ের সমান।

ভারতীয় দলের বোলাররা চতুর্থ দিনে যে ছন্দ দেখিয়েছেন, তাতে পঞ্চম দিনেও তাদের দাপট বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনাররা এবং পেসাররা মিলিতভাবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। অধিনায়ক শুভমান গিল তার বোলারদের যথাযথভাবে ব্যবহার করে চাপ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ফিল্ডিংও ছিল চোখে পড়ার মতো, যা প্রতিপক্ষের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি উইকেট ভারতের জয়ের দিকে এক ধাপ করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উইকেটে টিকে থাকা এবং ছোট ছোট পার্টনারশিপ গড়ে তোলা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং তরুণ সোনাল দিনুশাকে তার যোগ্য সমর্থন দিতে হবে। যদি তারা দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারায়, তবে হয়তো কিছুটা আশা দেখতে পারে। কিন্তু ভারতের বোলাররা নিশ্চয়ই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকবে, কোনো প্রকার সুযোগ দিতে চাইবে না। গল-এর পিচে শেষ দিনের সকালে রান করাটা খুবই কঠিন হবে, কারণ পিচ আরও ভেঙে যাবে এবং স্পিন ধরবে।

সব মিলিয়ে, গল টেস্টের পঞ্চম দিনটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসছে। যদিও ভারতের জয় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে, তবুও টেস্ট ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা এবং শ্রীলঙ্কার ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কিছুটা হলেও তাদের মনে আশা জাগাচ্ছে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা ম্যাচের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে, ভারতীয় দল এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা তাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ