সোমবার, 24 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
মধ্যপ্রাচ্য 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১১ জন নিহত: বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ

শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের উপর আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

শেয়ার করুন:
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১১ জন নিহত: বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ

শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের উপর সরাসরি আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, যেখানে ইসরায়েল দাবি করেছে তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির কাঠামো ঘোষিত হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণ। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনসার গ্রামের উপকণ্ঠে ভোরবেলায় চালানো একটি হামলায় সাতজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ও দুজন নারী রয়েছেন, যা হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট করে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, এই হামলায় একটি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। জার্মানির ডিপিএ সংবাদ সংস্থা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িটি হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যদিও লেবাননের কর্তৃপক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

একই দিনে দ্বিতীয় আরেকটি হামলায় দেইর আল-জাহরানি গ্রামে চারজন নিহত এবং সতেরোজন আহত হয়েছেন। এনএনএ আরও জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি তাহের পাহাড়ের আশেপাশেও একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এই পাহাড়টি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহ এবং এর মূল সড়কগুলোর ওপর নজরদারি করতে সক্ষম। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে এবং দাবি করেছে যে এটি ইসরায়েলি বাহিনীর উপর মিলিশিয়াদের হামলার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ছিল।

শনিবারের এই হামলার পর ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিক এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা ইসরায়েলের উপর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে বলেছে যে এই ধরনের আক্রমণের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে ইসরায়েলকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে তাদের আক্রমণ, লঙ্ঘন এবং একতরফা সিদ্ধান্ত চাপানোর প্রচেষ্টা চলতে পারে না। একই সাথে, তারা লেবাননের কর্তৃপক্ষকে ইসরায়েলের সাথে চলমান ‘অপমানজনক’ শান্তি আলোচনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ তাদের মতে এই আলোচনা শত্রুকে বিনামূল্যে ছাড় দিচ্ছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলি হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলকে এই উত্তেজনা বৃদ্ধির পদক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) তিনি লিখেছেন, “আনসার শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত সাতজন শহীদ সামরিক অবকাঠামো ছিলেন না এবং নিহত শিশু ও নারীরাও সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।” তাঁর এই মন্তব্য ইসরায়েলের দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছে।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা শুরু করলে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ পুনরায় তীব্র আকার ধারণ করে। এটি দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নেয়, যেখানে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি স্থল অভিযান, ব্যাপক সংখ্যক বাসিন্দার স্থানান্তর এবং ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। ইসরায়েল দাবি করে যে তারা উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলা প্রতিরোধ করতে দক্ষিণ লেবাননে তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে, যা লেবাননের মোট আয়তনের প্রায় ৬% জুড়ে বিস্তৃত (৬২০ বর্গ কিলোমিটার)।

গত জুন মাসের শেষের দিকে একটি কাঠামোবদ্ধ শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। এই চুক্তি অনুসারে, ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার এবং এর বিনিময়ে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিতে চূড়ান্ত শান্তির দিকে পদক্ষেপের ধারণাও অন্তর্ভুক্ত। উভয় পক্ষ এ পর্যন্ত সাত দফা আলোচনা চালিয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ আলোচনাটি এই মাসের শুরুর দিকে রোমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছে, চুক্তির অংশ ছিল না এবং অস্ত্র ত্যাগ করতেও রাজি হয়নি, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ