বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
এশিয়া 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত, চলছে উদ্ধার অভিযান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারত জেলায় নির্মাণাধীন মাঙ্গি বাঁধ এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় অন্তত ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এখনো বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে ব্যাপক অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন:
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত, চলছে উদ্ধার অভিযান

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) জিয়ারত জেলার নির্মাণাধীন মাঙ্গি বাঁধ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ডেপুটি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস আসাকজাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হামলার শিকার পুলিশ সদস্যরা বাঁধের নির্মাণকাজে নিয়োজিত স্থানে পাহারার দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই অতর্কিত আক্রমণে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে, যা প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ডেপুটি কমিশনার আরও জানান যে, নিহতদের পাশাপাশি হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি এবং তাদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

এই নৃশংস হামলার প্রতিবাদে সোমবার রাত থেকেই পার্শ্ববর্তী পিশিন জেলার জাতীয় মহাসড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন স্থানীয় জনতা। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন যে, বিপুল সংখ্যক অস্ত্রধারী ঐ এলাকায় প্রবেশ করে ২০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মকর্তাকে অপহরণ করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দাবির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি, তবে নিখোঁজদের সংখ্যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে এবং স্থানীয়রা সরকারের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী শাহিদ রিন্দ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) গোলাম সরওয়ারসহ আটজন পুলিশ সদস্য নিরাপদে কুচ থানা এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও, রিজওয়ান নামের এক কনস্টেবলকেও সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। এই উদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা স্বস্তি দিলেও, এখনো নিখোঁজ থাকা অন্যান্য সদস্যদের ভাগ্য নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক সহকারী শাহিদ রিন্দ তাদের বিবৃতিতে এই হামলার জন্য 'ফিতনা আল-খাওয়ারিজ' নামক একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে বোঝাতে 'ফিতনা আল-খাওয়ারিজ' শব্দটি ব্যবহার করার জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে যে, সরকার টিটিপিকেই এই হামলার পেছনে দেখছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

মাঙ্গি এলাকাটি বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটা থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কোয়েটার ক্রমবর্ধমান পানি সংকট মোকাবিলায় বেলুচিস্তান সরকার এখানে বহু বিলিয়ন রুপি ব্যয়ে মাঙ্গি বাঁধ নির্মাণ করছে। এই বাঁধ প্রকল্পটি প্রদেশের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এর নির্মাণকাজ বারবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা প্রকল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে।

এই অঞ্চলে অতীতেও একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে মাঙ্গি এলাকায় একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে লেভিস ফোর্সের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করে যে, মাঙ্গি এবং এর আশপাশের অঞ্চলগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠীদের জন্য একটি সক্রিয় কর্মক্ষেত্র এবং এখানে নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বর্তমান হামলাটি বেলুচিস্তানের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে প্রায়শই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সরকার এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। নিখোঁজ পুলিশ সদস্যদের দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জোরদার হচ্ছে, যা সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ